পাকিস্তানে তাপমাত্রা রেকর্ড ৫০ ডিগ্রি

তীব্র দাপদাহে ভুগছে পাকিস্তান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ফুসকুড়ি তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে। অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে তীব্র পানির সংকট ও স্বাস্থ্যের হুমকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এপ্রিলের শেষের দিক থেকে উচ্চ তাপমাত্রায় আক্রান্ত হয়েছে পাকিস্তান। এই চরম আবহাওয়াকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) জানিয়েছে বৃহস্পতিবার সিন্ধু প্রদেশের জ্যাকোবাবাদ শহরে ৪৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিলো। সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত তাপমাত্রা একই থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী ইসলামাবাদের পাশাপাশি করাচি, লাহোর ওপেশোয়ারসহ দেশব্যাপী পিএমডি সতর্কতাকৃত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ থেকে ৯ ডিগ্রি বেশি ছিল। শুক্রবার বিকেলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি রেকর্ড করা হয়েছে।

পিএমডি প্রধান আবহাওয়াবিদ জহির আহমেদ বাবর বলেন, “এই বছর আমরা শীত থেকে গ্রীষ্মে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। পাকিস্তান ২০১৫ সাল থেকে তীব্র তাপপ্রবাহে ভুগছে। তীব্র তাপ সিন্ধু প্রদেশ ও দক্ষিণ পাঞ্জাব প্রদেশে কেন্দ্রীভূত। তীব্রতা বাড়ছে, সময়কাল বাড়ছে এবং ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ছে।”

পাঞ্জাব প্রদেশের সেচের মুখপাত্র আদনান হাসান বলেন, “সিন্ধু নদী পাকিস্তানের প্রধান জলপথ। এই বছর বৃষ্টি ও তুষারপাতের অভাবে ৬৫ শতাংশ শতাংশ চাষ সঙ্কুচিত হয়েছে।”

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবের চোলিস্তান মরুভূমিতে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের কারণে ভেড়া মারা গেছে বলে জানা গেছে। যা জাতীয় রুটির ঝুড়ি হিসেবেও কাজ করে।

হাসান বলেন, “দেশে পানির ঘাটতি অব্যাহত থাকলে এ বছর খাদ্য ও ফসলের সরবরাহে ঘাটতির সত্যিকারের আশঙ্কা রয়েছে।”

পাকিস্তান দাবি করে, দেশটি বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের এক শতাংশেরও কমের জন্য দায়ী।

পরিবেশগত গ্রুপ জার্মানওয়াচের ২০২১ সালের সমীক্ষা অনুসারে, পাকিস্তান চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর অষ্টম সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে। যদিও প্রচণ্ড গরমের সুস্পষ্ট প্রভাব রয়েছে। এটি ক্যাসকেডিং বিপর্যয়ও ঘটাতে পারে। যা পাকিস্তানের সাধারণভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আঘাত করে।

পাকিস্তানের পার্বত্য অংশে সাত হাজারের বেশি হিমবাহের আবাসস্থল। যা মেরুর বাইরের যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি। দ্রুত গলিত হিমবাহ হ্রদগুলো স্ফীত করতে পারে। গত সপ্তাহান্তে হিমবাহ গলনের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে ব্রিজ ভেসে গেছে।

এপ্রিল মাসে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন, পাকিস্তানে ৩৩টি হ্রদ একই রকম বিপজ্জনক বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই রকম তাপপ্রবাহ ভারতকেও ভোগ করতে হচ্ছে। সবশেষ রাজস্থান রাজ্যের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪৮ দশমিক ১ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে।