সড়ক দুর্ঘটনায় বাড়ছে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী

দেশে প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। একইসঙ্গে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর সংখ্যাও। তাই এ রোগের চিকিৎসায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে।

রোববার (১৫ মে) বাংলাদেশ স্পাইন অ্যান্ড অর্থোপেডিক হাসপাতালের ফেলোশিপ ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত দেশে সার্জনদের জন্য থোরাকো-লাম্বার স্পাইনের অস্ত্রোপচার সম্পর্কিত এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ স্পাইন অ্যান্ড অর্থোপেডিক হসপিটালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুসাররাত হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ স্পাইন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. খ. আব্দুল আওয়াল রিজভী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিটোর পরিচালক এবং বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির (বিওএস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল গনি মোল্লাহ, নিটোরের একাডেমিক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মোনায়েম হোসেন, বিওএসের মহাসচিব অধ্যাপক. ডা. মো. ওয়াহিদুর রহমান, বাংলাদেশ স্পাইন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

অধ্যাপক আব্দুল আওয়াল রিজভী বলেন, বিকলাঙ্গতার চিকিৎসায় সার্জনদের দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। তাই তাদেরকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। একইসঙ্গে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ২ দিনের কর্মশালা বাংলাদেশের স্পাইন সার্জনদের জন্য খুবই কার্যকর হয়েছে, যা তাদের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল গনি বলেন, গত ঈদে প্রায় ৬০০ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কেস এসেছে শুধু নিটোরে। যার মধ্যে মৃত্যুহার আশঙ্কাজনক, স্পাইনাল ইনজুরি ৫ থেকে ৬ শতাংশ।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর পক্ষে সবাইকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া কঠিন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, দেশে দিন দিন বাড়ছে মেরুদণ্ডের বিভিন্ন রোগ। এর মধ্যে মেরুদণ্ডের বিকলাঙ্গতা ও যক্ষ্মা অন্যতম। এসব সমস্যার জন্য দেশের মানুষকে ছুটতে হত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তবে আশার কথা হলো মেরুদণ্ডের উন্নত চিকিৎসা এখন বাংলাদেশেই হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে এখন আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের মত এত জনবহুল রাষ্ট্রে দক্ষ, প্রশিক্ষিত স্পাইন সার্জন তৈরির বিকল্প নেই। সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমাদের চিকিৎসকদের নিঃসন্দেহে আরও বেশি দক্ষ করে গড়ে তুলবে। এদেশের মধ্যম ও নিম্নবিত্ত মানুষের সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

কর্মশালায় ভারতের দিল্লীর স্পাইনাল ইনজুরি সেন্টারের স্পাইন সার্জারি বিভাগের কলসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান গুরুরাজ এম সানগোনথিমাত এবং বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ৮ জন স্পাইন সার্জন এই কর্মশালায় মেরুদণ্ডের আধুনিক অপারেশনের কৌশল নিবন্ধিত ২৮ জন অংশগ্রহণকারীকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেন।