লেখক:

সাদমান সামি

পঞ্চম শ্রেণী

শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, ঢাকা



আমরা প্লুটোকে গ্রহ বলি না। জানতে ইচ্ছা করে প্লুটো কেন গ্রহ নয়? আবার অনেকে জানে। আজ আমি লিখলাম প্লুটো কেন গ্রহ নয়।

 

খোঁজঃ বিজ্ঞানীরা ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় ইউরেনাস ও নেপচুন গ্রহের গতি পথে খানিকটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে ধারণা করেন সৌরজগতের আরও বাহিরে কোন গ্রহের আকর্ষণে এমন ঘটছে। তারা সবাই গ্রহটার নাম দিল প্ল্যানেট এক্স বা এক্স গ্রহ এবং সেটিকে খুঁজতে লাগলো। ১৯১৫ সালে একবার আর ১৯১৯ সালে আরেকবার প্লুটোর ছবি তোলা হয়। কিন্তু তার গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কারণ, সেটা খুব ছোট আর অনুজ্জল ছিল। সবাই ভাবল গ্রহটা ইউরেনাস আর নেপচুন এর গতি যেহেতু বদলাতে পেরেছে গ্রহটা নিশ্চয়ই এই ছবির থেকে আরও বড় হবে।

উৎসাহ হারানোর কারনঃ অনেক দিন ধরে গ্রহটি খুঁজে না পাওয়ায় বিজ্ঞানীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। যিনি এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি ১৯১৬ সালে মারা যান। তাই এই উৎসাহে ভাটা পরতে থাকে।

নতুন করে প্লুটো খোঁজাঃ ১৯২৯ সালে আরিজনার লোভেল অবজারভেটরিতে আবার নতুন করে এই রহস্যময় গ্রহ খোঁজা শুরু হয়। ক্যামেরা আর ১৬ ইঞ্চি টেলিস্কপ দিয়ে গ্রহের ছবি তোলার দায়িত্ব দেওয়া হল কমবয়সী ক্লাইড টমবোকে।

ফলঃ ১৯৩০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্লাইড টমবো এর পরিশ্রমের ফল বের হয়ে এল। তিনি ক্যামেরার প্লেটে এক ছোট বিন্দু খুঁজে পান (নতুন গ্রহ)। এক মাস পর এর নাম নামকরণ করা হল প্লুটো । এটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।

গ্রহ না হওয়ার কারণঃ প্লুটোর ব্যাস মাত্র ১৩৭৫ মাইল। পৃথিবীর ৫ ভাগের এক ভাগ। এর আকার মোটেও গোল নয়। এর কক্ষপথ অন্য গ্রহ থেকে ভিন্ন। রবি (sun) থেকে  এর গড় দূরত্ব প্রায় ৬০০ কোটি কিলোমিটার। এত দূরত্ব এত যে রবির (sun) আলো ঠিকভাবে পৌছায় না।এর তাপমাত্রা -২১২ থেকে -২২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃথিবীর হিসেবে এর রবিকে (sun) একবার ঘুরে আসতে ২৪৮ বছর সময় লাগে। এই গ্রহটি বায়বীয় নয়। এর আকার খুব ছোট এসব বিভিন্ন কারণে প্লুটো গ্রহ নয়।

উপসংহারঃ বর্তমান জীবনে আমরা প্লুটোকে গ্রহ বলে সম্মত নয়। নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয় প্লুটোকে গ্রহের সম্মান দেওয়ার জন্য রীতিমত আন্দোলন করত। তবুও একে গ্রহের তালিকায় আনা হয় নি।