লেখক:

মীর তাফহীম মাহমুদ

অষ্টম শ্রেণী

লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লা


 

সময়ঃ

সময় সম্পর্কে অনেক বিজ্ঞানী-ই মতামত দিয়েছেন। তবে সময়কে বলা হয় মহাবিশ্বের মৌলিক কাঠামোর একটি অংশ। এটি একটি বিশেষ মাত্রা এবং এখানে ভৌত ঘটনাসমূহ একটি ক্রমধারায় ঘটে

 

আমার মতে সময়ঃ

আমরা সবাই জানি, সময়ের উৎপত্তি হয়েছে বৃহৎ বিস্ফোরণ থেকে। এর আগে কোনো সময় ছিলনা।

আমারও এই বিষয় নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ আমার মতে সময় হচ্ছে ঘটনা। প্রতিটি ঘটনা হলো একটি সময়। ঘটনা না সৃষ্টি হলে সময়ও সৃষ্টি হতে পারবেনা। কোনো ঘটনা ছাড়া সময়ের অস্তিত্বের কথা চিন্তা করা যায় না।

যেমনঃ আমরা এখন বেঁচে আছি। এই বেঁচে থাকার ফলে প্রতি মুহূর্তে আমরা কোনো কোন ঘটনা ঘটাচ্ছি। ঘটনা ঘটানোর ফলে আমরা মনে করতে পারি কোন ঘটনা কখন ঘটেছে। অর্থাৎ, যেকোনো ঘটনা ঘটাকেই বলা হয় সময়।

এখন আমরা এর উল্টোটা চিন্তা করে দেখি। ধরি, এখনও মহাবিশ্বের কিছুই সৃষ্টি হয়নি। অর্থাৎ, কোনো ঘটনাও ঘটছেনা। তাহলে কি আমরা সময়ের অস্তিত্ত্ব খুঁজে পাবো?

মোটেই না। আমরা মূলত ঘটনা দেখেই সময় পরিমাপ করি। অর্থাৎ দুটি ঘটনার মধ্যবর্তিতে যা থাকে তা-ই হলো সময়।

এর ধারণা পাওয়া যায় বৃহৎ বিস্ফোরণ থেকে। এতে বলা হয়েছে বৃহৎ বিস্ফোরণের আগে কোনো সময় ছিলনা। অর্থাৎ, নিঃসন্দেহে বলা যায় বৃহৎ বিস্ফোরণের আগে কোনো ঘটনা ঘটেনি তাই তখন সময় ছিলনা। বৃহৎ বিস্ফোরন প্রথম ঘটনা বলে সে ঘটনা থেকে সময় পরিমাপ করা যায়।        

 

আমার মত পাল্টেছেঃ

এর আগের সংজ্ঞায় আমি বলেছি সময় এক ধরনের ঘটনা। কিন্তু আগের সংজ্ঞার আরো গভীরে গিয়ে এই সংজ্ঞায় সময়কে বলছি সময় হলো আকর্ষণ। এই সময়কে আকর্ষণ বলার একটি কারণ রয়েছে। এটি বোঝার জন্য কিছু চিন্তা করা যাক।

আমরা এখন ঘটনা ঘটাচ্ছি। আর দুইটি ঘটনার মাঝে যা পাচ্ছি তা হলো সময়। এখন আমরা আরেকভাবে চিন্তা করে দেখি। 

মনে করি, পৃথিবীতে কোনো ঘটনাই ঘটছে না। কোনো মানুষ কোনো ঘটনা ঘটাচ্ছে না কোনো প্রাণী এবং উদ্ভিদও ঘটাচ্ছেনা। তবে কি সময়ও শূন্য হয়ে যাবে?

না, সময় কোনোভাবেই একবার সৃষ্টি হয়ে শূন্যে পরিণত হতে পারেনা। কারণ পৃথিবীতে কেউ কোনো ঘটনা না ঘটালেও একটি ঘটনা বন্ধ হতে পারেনা। তা হলো মহাকাশে অন্যান্য গ্রহ, নক্ষত্র, উপগ্রহদের স্থান পরিবর্তন। এই ঘটনা যেহেতু ঘটে গ্রহ নক্ষত্রের একে অপরকে আকর্ষণের কারণে সেহেতু, সময়ও ঘটে আকর্ষণের কারণে। অর্থাৎ সময় হলো আকর্ষণ।

 

পাল্টানো মত আবারও পাল্টেছেঃ

উপোরোক্ত সংজ্ঞা গুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে যে সময় হচ্ছে ঘটনা, এই ঘটনা ঘটে আকর্ষণের কারণে। কিন্তু তবুও সময়ের সংজ্ঞা পূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়নি। আমরা দেখতে পাচ্ছি আকর্ষনের ফলে কোনো কিছুই আগের মতো থাকছেনা। স্থান পরিবর্তন হচ্ছে। অর্থাৎ, ঘটনার সঙ্গে যেহেতু কোনো বস্তুই আগের মত থাকছেনা সেহেতু সময় হলো পরিবর্তন। 


পৃথিবী ধ্বংসের পরও কি সময় থাকবেঃ

পৃথিবী কীভাবে ধ্বংস হবে তা জানা নেই। তবে যেভাবেই হোক না কেন, পৃথিবীর ধ্বংসের প্রভাব মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহের উপর কোনো প্রভাব ফেলবেনা। অর্থাৎ, তারা একে অপরকে আকর্ষণ করে স্থান পরিবর্তন করবে যা এক ধরণের ঘটনা। আর এই আকর্ষনের ফলে স্থান পরিবর্তন যতদিন হবে ততদিনই সময় থাকবে। কারণ এই সবই ঘটনা।

 

সময়কে কি উল্টো ঘুরানো যায়?

অনেকে প্রশ্ন করে সময়কে কি উল্টো ঘুরানো সম্ভব? আবার অনেকে উত্তরও দিয়ে দিয়েছে যে যদি আমরা আলোর গতিতে যাই তবে সম্ভব হবে। এই মত সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই বিশ্বাস করবেনা। কারণ, সেটা ধর্মবিরোধি। সেটা হয়তো বৈজ্ঞানিকভাবেও অযৌক্তিক।

যদি আমার উপরের আলোচনা অনুযায়ী বিচার করা হয় তবে আমরা তখনই সময়কে উল্টো ঘুরাতে পারবো যখন কোনো কিছুর পরিবর্তন ঘটানো বন্ধ করতে পারি। যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।