লেখক:

সমর্পণ বিশ্বাস 

নবম শ্রেণি 

খুলনা জিলা স্কুল, খুলনা  

 

 

.সারসংক্ষেপঃ

        অপেক্ষবাদ কথাটাকে অনেকে আপেক্ষিক তত্ত্বও বলে থাকেন এই অপেক্ষবাদ আবার দুই ধরনের যথাঃ ব্যাপক অপেক্ষবাদ (General theory of relativity ) বিশিষ্ট অপেক্ষবাদ (Special theory of relativity) তবে স্কুলপড়ুয়াদের জন্য সম্ভবত বেশি উপযুক্ত বিশিষ্ট অপেক্ষবাদ কমবেশি প্রায় সবাই জানে যে আইনস্টাইন আলোর গতিতে চলার মাধ্যমে সময় ভ্রমণের কথা বলেছেন অর্থাৎ, যে ব্যক্তির দ্রুতি হবে আলোর দ্রুতির খুব কাছাকাছি , তিনি একজন স্থির মানুষের তুলনায় কম সময় অতিক্রম করবেন চলে যাবেন ভবিষ্যতে স্থির ব্যক্তির সাপেক্ষে গতিশীল ব্যক্তির দ্রুতির পার্থক্য যত কমবে, সময়ের পার্থক্যও তত কমবে কিন্তু দ্রুতির পার্থক্য বেশি কমে গেলে সময়ের পার্থক্যকে আর ধর্তব্যের মধ্যে আনা হয় না শরীরচর্চা এবং অভিকর্ষের মাধ্যমেও এই সময়টুকু অর্জন করা সম্ভব খুব হালকা উপায়েই একজন মানুষ অন্য পাঁচজনের চেয়ে কিছুটা হলেও ভবিষ্যতে যেতে পারেন

 

 

.কার্যপদ্ধতিঃ

        সময় পেরিয়ে মানুষের ভবিষ্যতে যাওয়ার ইচ্ছা বহুকাল থেকেই মাঝেমধ্যে কিছু আশা জাগানর মত তথ্য পাওয়া গেলেও অতীত বা ভবিষ্যতে যাওয়ার পরিকল্পনাটা রয়ে গেছে অধরা, বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিক তত্ত্বে যখন বললেন যে, আলোর বেগের খুব কাছাকাছি বেগে চললে মানুষ অনেকখানি ভবিষ্যতে চলে যেতে পারে, তখন প্রযুক্তিবিদরা আবার নড়েচড়ে বসলেন কিন্তু আবারও শত চেষ্টা করেও সময়কে বাগে আনা গেল না ভবিষ্যতে যাওয়া হল না ঠিকই, তবে আপেক্ষিক তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিবিদরা তৈরী করলেন পারমাণবিক বোমা ধুলিস্যাৎ করলেন হিরোশিমা নাগাশাকি এর মত অসাধারণ দুই শহরকে

 

. শরীরচর্চায় আপেক্ষিক তত্ত্বঃ

        শরীরচর্চা হল বিশেষ শারীরিক কসরৎ করা যা শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে শরীরচর্চার মধ্যে কিছু গতির ব্যাপার রয়েছে যেমনঃ দৌঁড়,হাঁটা,জগিং,অশ্বারোহণ,সাঁতার কাটা প্রভৃতি এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় গতির তারতম্য দেখা যায় একজন সাধারণ মানুষের দৌঁড়ের গতিবেগ মিটার/সেকেন্ড এর কাছাকাছি পৃথিবীর দ্রুততম মানব উসাইন বোল্টের গতিবেগ ১১. মিটার/সেকেন্ড এর মত ! হেঁটে চললে সাধারণ একজন মানুষের গতিবেগ . মিটার/সেকেন্ড জগিং, অশ্বারোহণ সাঁতারের ক্ষেত্রে এই বেগ যথাক্রমে মিটার/সেকেন্ড, ৯মিটার/সেকেন্ড ৩মিটার/সেকেন্ড ব্যায়াম করা নেহাত সময় নষ্টএরকম ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে তবে মূল সত্যটা হল এই, যে এসকল শরীরচর্চা আপনার সময় বাঁচাবে আইনস্টাইন বলেছেন, একজন মানুষ দৌঁড়াতে থাকলে .৭৬ x ১০-১৪ % সময় অর্জন করতে পারবে মানে সেকেন্ডের ১০ হাজার ভাগের ভাগ সময় অর্জন করতে হলে শরীরচর্চা করতে হবে ৫৫ বছর! খুব আশাবাদী লোক না হলে এই সংখ্যাটি দেখে চোখ চকচক করার কথা নয়!

           কিন্তু তারপরেও শরীরচর্চা করা দরকার এতে সময় হয়তো কিছুটা নষ্ট হবে ঠিকই, তবে আপনার শরীরের প্রতিটা অংশ থাকবে স্বাভাবিক বাইরের রোগজীবাণুর কার্যালয় হবে না শরীর, হবে সুস্থতার আবাসস্থল রক্ত চলাচল থাকবে স্বাভাবিক, মন হবে আনন্দময় শেষ পর্যন্ত দিনের সামান্য একটু সময় খরচ করে আপনি হতে পারেন সত্যিকারেরসুখী মানুষ

 

 

.সিদ্ধান্তঃ

        বর্তমানে ২০০০ কি.মি./ঘন্টা বেগে ছুটতে পারে এমন প্লেন তৈরী হয়েছে তৈরী হয়েছে ২০ কিলোমিটার/সেকেন্ড বেগে চলার ক্ষমতাসম্পন্ন রকেট শব্দের চেয়ে বেশি বেগে চলা প্লেনে ১২. বছর ধরে ছুটলে সেকেন্ডের ১০০ ভাগের ১ভাগ সময় জয় করা সম্ভব এই সময়টাকে খুব ছোটো মনে হলেও নেহাৎ ফেলনা নয় দৌঁড়ানোর সময় আমরা নিজেদের অজান্তেই এই সময়টুকুর মধ্যে প্রায় সে.মি. অতিক্রম করি ! আর রকেটে করে মাত্র ৩০৭ দিন ধরে চললেই অর্জন করা সম্ভব সেকেন্ড সুতরাং, কেউ যদি ২০কিলোমিটার/সেকেন্ড বেগের রকেটে চড়ে মাস মহাকাশ অভিমুখে যায় তারপর আরও মাসে পৃথিবীতে ফিরে আসে, তাহলে হয়তো সে পৃথিবীতে থাকা মানুষদের বলতে পারবে, আমি তোমাদের চেয়ে সেকেন্ড ভবিষ্যতে আছি ! কী অসাধারণভাবে মানুষ সময়কে জয় করতে শিখে গেছে ! সুতরাং, যেসব কিশোর বা তরুণ নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছে,তারা পাইলট বা নভোচারী হতেই পারে(তবে সকলেই এই ভেবে পাইলট বা নভোচারী হতে চাইলে অন্য পেশায় লোকের অভাব হতে পারে!) এছাড়াও ভ্রমণের মাধ্যমে যে সময় অর্জন করা সম্ভব, তা তো একটু আগেই প্রমাণ হয়ে গেল এরপর হয়তো অদূর ভবিষ্যতেই কোন চরম দ্রুতগতির যান আবিষ্কৃত হলে মানুষ স্রেফ তরুণ থাকার জন্যই যানে করে ভ্রমণে বেরবে তবে ভবিষ্যতে মানুষ যদি সময়কে শাসন করতে শুরু করে, তখন ব্যপারটা যে খুব একটা ভালো হবে না, তা অনুমান করাই যায়

 

.আলোচনাঃ

.১অপেক্ষবাদ পৃথিবীঃ

        পৃথিবী নিজের কক্ষপথে সবমিলিয়ে গড়ে ৩০ কি.মি./সে. বেগে ঘুরছে এর ফলে পৃথিবীতে থাকা মানুষ প্রতি চার বছর নয় মাস অন্তর মিনিট সময় ভবিষ্যতে যাচ্ছে অর্থাৎ, একজন গড়পড়তা মানুষ তার সমস্ত জীবনে ১৫ মিনিট ভবিষ্যতে যায় গ্রহদের মধ্যে বৃহস্পতির গতিবেগ অনেক বেশি বৃহস্পতিতে থাকা একজন মানুষ সুর্যে থাকা একজন সমবয়সী মানুষের তুলনায় বেশ ভবিষ্যতে থাকবেন (যদিও এই দুই স্থানে জীবনধারণ সম্ভব নয়!) অপেক্ষবাদ অনুসারে আবার পৃথিবীর মতো ভারী বস্তুর কাছে সময়ের গতি ধীর হবে কারণ আলোর কম্পাঙ্ক এর শক্তির সমানুপাতিক শক্তি বাড়লে কম্পাঙ্ক বাড়বে তাই, আলো কোনো ভারী বস্তুর মহাকর্ষীয় বলক্ষেত্রকে অতিক্রম করে উপরে যেতে গেলে এর শক্তি ক্ষয় হয় ফলে আলোর কম্পাঙ্ক কমে যায় তখন পৃথিবীতে থাকা একজনের ঘড়ি শূন্যে থাকা একজনের ঘড়ি থেকে ধীর হবে তাই শূন্যে স্থির একজন অতীতে থাকবে ! ফলে, পৃথিবীতে থাকা একজন মানুষ আলোর এই ধর্ম এবং কাক্ষিক গতিবেগের কারণে মহাকাশে স্থির ব্যক্তির তুলনায় ভবিষ্যতে থাকবে

 

.২অপেক্ষবাদ ভবিষ্যৎঃ

        ভবিষ্যতে অপেক্ষবাদের তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে মানুষ আদৌ ভবিষ্যতে যেতে পারবে কিনা তা ভবিষ্যতই বলে দেবে তার জন্য আগে দরকার হবে প্রচন্ড শক্তি নিউক্লিয় শক্তি ছাড়া এরকম প্রচন্ড পরিমাণ শক্তি পাওয়া কঠিন ভবিষ্যতে গেলে আবার অতীতে ফিরে আসার ব্যবস্থাও করতে হবে তবে রেফারেন্স ফ্রেমের(প্রসঙ্গ কাঠামো) তারতম্যের কারণে একাজটা হয়তো খুব একটা কঠিন হবে না কিন্তু কেউ যদি আলোর কাছাকাছি বেগে ছুটে গিয়ে দ্রুত কোন স্থানে পৌঁছানোর ইচ্ছা পোষণ করে, তাহলে সে বেশ বোকামির পরিচয় দেবে কারণ, .৯৯৯c [c হলো আলোর বেগ] বেগে ছোটা একজন মানুষ ১৩,৬১৩ কিলোমিটার/সেকেন্ড বেগে ছোটা একজন মানুষ যদি একই মূহুর্ত থেকে যাত্রা আরম্ভ করে, তাহলে তারা প্রায় সমান সময়ে সমান দূরত্ব অতিক্রম করবে ! এর পিছনের রহস্য হলো .৯৯৯c বেগে ছোটা মানুষ স্থির মানুষের তুলনায় ২২গুণ ভবিষ্যতে থাকবে যদিও এই তথ্যে কিছু ভুল থাকতে পারে, তবুও আলোর বেগে ছুটে খুব দ্রুত কোথাও পৌঁছানো যাবে না

 

 

.ঊপসংহারঃ

        সময় সর্বদা ধ্রুবকএরকম ধারণা ধারণকারীদের মুখে চুনকালি দিয়েছেন এইচ. জি. ওয়েল্, আলবার্ট আইনস্টাইন,স্টিফেন হকিং প্রমুখ বিজ্ঞানী সময়কে মোটামুটি হাতের মুঠোয় পুরে নেওয়ার উপায় তারা দেখিয়েছেন সত্যিকারের টাইম মেশিন তৈরীর ফর্মূলা এখন রয়েছে আমাদের কাছেই বাকীটা এখন প্রযুক্তিবিদদের প্রায়োগিক ক্ষমতার উপর নির্ভর করছে এখানে আমি বেশিক্ষণ তরুণ থাকার কিছু উপায়ের কথাও বলেছি আসলে আমাদের এই পৃথিবীটা সত্যিই অনেক সুন্দর কিছু কৌশল অবলম্বন করে যদি কয়েক সেকেন্ডও এই পৃথিবীকে বেশি উপভোগ করা যায়, সেটাই বা মন্দ কীসে !

 

 

.তথ্যসূত্রঃ

                     কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস --- স্টিফেন হকিং

                     পদার্থবিদ্যার মজার কথা --- ইয়াকভ পেরেলম্যান

                     Fundamentals of Physics --- Halliday and Resnick

                     The Grand Design --- Stephen W Hawking

                     অপেক্ষবাদ --- আলবার্ট আইনস্টাইন

                     থিওরি অফ রিলেটিভিটি --- মুহম্মদ জাফর ইকবাল

 

.কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ

        আমি সবার আগে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার প্রিয় বন্ধু দেবানিক দত্তকে সে বিভিন্ন সময়ে আমাকে নানান রকম তথ্য সরবরাহ করে সাহায্য করেছে মূলত আমি এই পেপারে সম্পূর্ণ নিজের মতামত প্রকাশ করেছি তাই এখানে নানা ভুল থাকতে পারে আশা করি আমার এই পেপার সকলের ভালো লাগবে