লেখক:

সমর্পণ বিশ্বাস 

৯ম শ্রেণী 

খুলনা জিলা স্কুল,  খুলনা 

 

১.সারসংক্ষেপঃ

                     ড. লাইটফুট নামে কেম্‌ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য একবার প্রচার করেন যে খ্রীষ্টপূর্ব 4004 অব্দের 23 অক্টোবর ঈশ্বর এই পৃথিবী ও পৃথিবীর সকল জীবকে একত্রে সৃষ্টি করেছেন । বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে এই কথা বারবার উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু জনাকয়েক কৌতুহলী ও জ্ঞানপিয়াসু বিজ্ঞানী কঠোর গবেষণা করেন এবং বিভিন্ন প্রমাণ যোগাড় করে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন যে, ধাপে ধাপে ক্রমবিকাশের মাধ্যমে এক জীব থেকে অন্য জীবের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্রমবিকাশের প্রক্রিয়াকে বিবর্তন বলে। বিবর্তন প্রক্রিয়ার সর্বশেষ সংযোজন হলো মানুষ। বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী মানুষ আবার পরিবর্তিত হয়ে অন্য জীবে পরিণত হবে। তখন সেই জীব হয়তো খুব বুদ্ধিমান বা শক্তিশালী হবে। পরবর্তী জীবে যেসকল বৈশিষ্ট্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তা নিয়ে এখানে আলোচনা করা হলো।


২.পূর্বকথনঃ

              বিবর্তনবাদের ধারণা সর্বপ্রথম প্রদর্শন করেন জ্যাঁ ব্যাপটিস্ট পিয়েরে দ্যা মনেট ল্যামার্ক। বিবর্তন সম্পর্কে তাঁর মতবাদ ল্যামার্কবাদ নামে পরিচিত। ল্যামার্কবাদ অনুসারে পূর্বপুরুষের অর্জিত বৈশিষ্ট্যসমূহ পরবর্তী পুরুষের মধ্যেও দেখা যায়। কিন্তু এই যুক্তির পিছনে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় ল্যামার্কবাদ নিয়ে বিপুল সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে জ্যাঁ ল্যামার্কই সর্বপ্রথম বিবর্তনবাদের বীজ বপন করেন।


             ল্যামার্কের মতবাদের সমালোচনাকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন। তিনি দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণের ফলে বিভিন্ন জীবের মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্যগত মিল দেখতে পান। এ থেকেই তাঁর মাথায় বিবর্তনের ধারণা আসে। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ The Origin of Species – এ তিনি বিবর্তন সম্পর্কে কিছু ধারণা প্রকাশ করেন । ডারউইনের যুক্তিগুলো এতটাই শক্তিশালী ছিল যে সমস্ত বিশ্বেই বিবর্তনের এই কারণ ও পদ্ধতিগুলো বিপুল প্রশংসা পায়। তবে তাঁর কিছু কিছু যুক্তি নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়। তারপর বিজ্ঞানীগণ আধুনিক জীবপ্রযুক্তি ও বংশগতিবিদ্যার আলোকে ডারউইনের তত্ত্বকে কিছুটা সংশোধন করে নবডারউইনবাদ বা আধুনিক সংশ্লেষণ তত্ত্ব তৈরী করেন। এই তত্ত্ব অনুসারে জীবজগতে নিম্নলিখিত উপায়ে বিবর্তন সম্পন্ন হয়ঃ


  •           জীবজগতের একই প্রজাতির একাধিক প্রজাতির মধ্যে বিভিন্নতা বা প্রকরণ দেখা যায়। মূলত মাতৃ ও পিতৃ জননকোষের ক্রোমোজোমের 
  •          বৈশিষ্ট্যগুলোর বিভিন্নতার সংযোজন হয়ে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়। এভাবে একই প্রজাতির বিভিন্ন জীবের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।
  •           জীবের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে ক্রোমোজ়োমের জিন বা DNA অণু। গামা রশ্মি , অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে বা অন্য কোন কারণে DNA অণুর  
  •           রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলেই জীবের মধ্যে প্রকরণ ঘটে। দেহের অল্পকিছু জিনের মধ্যে আবার আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে। একে জিন পরিব্যক্তি বলে। 
  •          স্বাভাবিক জিন অপেক্ষা পরিব্যক্ত জিন সংখ্যায় খুব অল্প থাকে। এসমস্ত জিন পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হতে পারলে জীবের দেহে স্থায়ীভাবে ঐসকল জিনের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। আর পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারলে ঐ জিনগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়।
  •          এভাবে একই প্রজাতির মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব দেখা যায়। এদের মধ্যে যাদের দেহ পরিবেশের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ তারাই প্রকৃতিতে টিকে থাকে। বাকীরা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। একে যোগ্যতমের জয় বা প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে।
  •          এভাবে ক্রমাগত প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলে জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়ে প্রজাতির সৃষ্টি হয় ও বিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকে।


এখনো পর্যন্ত পাওয়া সকল প্রমাণ ও জীবাশ্ম অনুযায়ী প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের ধারণাই সবচাইতে যুক্তিযুক্ত ও বিজ্ঞানসম্মত। তাই এই তত্ত্ব অনুযায়ী আলোচনা এগোনো হল।


৩.মূলকথনঃ

                জীবের সৃষ্টির আদিকাল থেকেই জীব প্রকৃতির সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। এই চেষ্টা থেকেই ধীরে ধীরে এক জীব থেকে সৃষ্টি হয়েছে অন্য জীবের। একদম শেষ পর্যায়ে এসে প্রায় 1.5 কোটি বছর পুর্বে সৃষ্টি হয়েছে মানুষের পুর্বপুরুষেরা। কিন্তু মানুষের ক্রমবিকাশের সাথে সাথে গল্পটা যেন উল্টে যেতে শুরু করেছে। বেশি গরম পড়লে মানুষ এ.সি. চালিয়ে দেয়, শীত লাগলে চালায় রুম হিটার। এর ফলে প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলার গতিও যেন অনেক ধীর হয়ে গেছে। এজন্য সম্ভবত বিবর্তনও তার স্বাভাবিক ধারা কিছুটা হারিয়েছে ।


চিত্র : মানুষের পূর্বপুরুষ

৩.১. চলমান বিবর্তনঃ

                   বর্তমান আধুনিক মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হোমো স্যাপিয়েন্স স্যাপিয়েন্স। আনুমানিক 30000 বছর পূর্বে এই প্রজাতির উদ্ভব। এরা প্রায় 8000 বছর পূর্বে চাষাবাদ করতে শিখে সভ্যতা স্থাপন করে। তাদের থেকে আজ আমরা সেই সভ্যতার উন্নতি করে চলেছি। এই গত 8000 বছরের পর থেকে উল্লেগযোগ্য বিবর্তন তেমন কিছু হয়নি। এর কারণ প্রকৃতির উপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠা। তবে পরিবর্তন হয়েছে মস্তিষ্কে। সে যুগে মানুষ রাত্রে শুয়ে শুয়ে চাঁদের আলো উপভোগ করত। আর আমরা এখন রীতিমত চাঁদের উপর দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছি।


               মস্তিষ্কের ব্যবহার দিন দিন প্রায় জ্যমিতিক হারে বাড়ছে। কমে যাচ্ছে অন্যান্য অঙ্গের ব্যবহার। এর ফলে এসব অঙ্গের তেমন একটা ক্রমবিকাশ বা পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে এখনো পৃথিবীতে খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাদের শারীরিক অঙ্গে অতিক্ষুদ্র কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। যেমন, এসব মানুষের পায়ের ও হাতের পাতা জন্ম থেকেই বেশ প্রশস্ত ও শক্ত হয়।


                 বিবর্তনের গতি সামান্য ধীর হয়ে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো বিভিন্ন রোগের বিলুপ্তি। চিকিৎসাশাস্ত্রের উন্নতির ফলে খুব শক্তিশালী অণুজীবও সম্পুর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে বেশকিছু জিন প্রয়োজনহীনতার কারণে হারিয়ে গেছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে।


৩.২.শাখান্বিত মানবজাতিঃ

                   নৃতত্ত্ববিদ্গণ মানবজাতিকে পুর্বে ইউরোপয়েড, নিগ্রোয়েড ও মঙ্গোলয়েড – এই প্রধান তিনটি অংশে বিভক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন আধুনিক বিশ্বায়নের ফলে বিভিন্ন স্থানের মানুষের যোগাযোগ ও মেলামেশা বেড়েছে। ফলে মানুষ এখন আর তিনটি অংশে বিভক্ত নেই। বিপুল পরিমাণ সংকরায়ণের ফলে মানুষের মধ্যে অসংখ্য নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে মানুষের মধ্যে পার্থক্য বাড়ছে এবং গত ৩০০০ বছরে জ্যামিতিক হারে প্রকরণ ঘটেছে।


             এথেকে একটি কথা অনুমান করা খুব একটা কঠিন নয়। তা হলো- মানুষ থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে একাধিক বা বহু প্রাণী সৃষ্টি হবে। অন্যান্য প্রাণীতে প্রজনন সীমাবদ্ধ স্থানে ঘটে। ফলে তাদের মধ্যে প্রকরণ ঘটে সামান্যই। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে প্রকরণটা প্রবল বলেই ভবিষ্যতে মানুষ থেকে বহু প্রাণীর সৃষ্টি হবে। হয়তো কেউ হবে বুদ্ধিমত্তায় সেরা বা কেউ হবে প্রবল শক্তিশালী।


৩.৩.নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনঃ

                             পুর্বে নির্দিষ্ট জিনের বিলুপ্তি বা স্থায়ীত্ব ঠিক করত প্রকৃতি। কিন্তু এখন প্রকৃতির উপর মানুষের নির্ভরতা সামান্যই। তাই অভিযোজনের প্রতিও মানুষের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এজন্য ভবিষ্যতে বিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রকৃতির প্রভাব বেশ কম থাকবে। তার বদলে প্রাধান্য পাবে মানুষের নিজের প্রয়োজন। আধিপত্য বিস্তারের জন্য যেসব অঙ্গ অত্যাবশ্যকীয়, তাদের বিকাশই হবে সবচেয়ে বেশি। এই ক্রমবিকাশের তালিকায় মস্তিষ্কের নাম যে সবার আগে আসবে, তা বলাই বাহুল্য।


                      মানুষ এখন জিন প্রকৌশলে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে উন্নতি করে চলেছে। ইতিমধ্যে ক্লোন তৈরীর ক্ষেত্রেও সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও জিন নির্বাচন, ছাটাই ও সংযোজনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির ফসল তৈরীর ঘটনা তো অহরহ ঘটেই চলেছে। এরপর হয়তো জিন প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন প্রাণীও তৈরী করবে। পরবর্তীতে মানুষই যে বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করবে কিনা তা কে বলতে পারে ?


৩.৪. সম্ভাব্য অবকাঠামো :

                      ভবিষ্যতের প্রাণী দেখতে কেমন হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এক সময় অনেক বিজ্ঞানী মনে করতে যে, মানুষের দেহে অব্যবহৃত অংশগুলি ক্ষুদ্র হয়ে আসবে কিন্তু মাথা ক্রমশই বৃহৎ হতে বৃহত্তর হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে এই মানুষগুলির হাত ও পা সরু হবে এবং চোখ, কান, নাক, মুখ প্রভৃতি ছোট হয়ে আসবে এবং মাথায় একেবারেই চুল থাকবে না। অবশ্য বর্তমান বিজ্ঞানীগণ এই ধরণের ক্রমবিকাশ হেসে উড়িয়ে দেন। এর কারণ এইসব বৈশিষ্ট্য আধুনিক জীববিজ্ঞানকে সমর্থন করে না। তাছাড়া এগুলি ল্যামার্কবাদের উপর ভিত্তি করে অনুমান করা হয়েছিল।


                 তবে এখানে কিছু অনুমান, কিছু প্রমাণ এবং বিজ্ঞানীদের মতবাদ অনুসারে ভবিষ্যতের প্রাণীদের শারীরিক অবকাঠামো নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হল :


৩.৪.১. অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো :


ভবিষ্যতের প্রাণীর দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহতে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য দেখা যাবে :

Ø  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশ কমে যাবে।

Ø  বৃহদান্ত্রের নিচের দিকে এ্যাপেন্ডিক্স নালী ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Ø  দেহের পিছনে নিচের দিকে মেরুদন্ডের একদম শেষ প্রান্তে একটি হাড় উঁচু হয়ে থাকে। এ সূঁচালো হাড় বিলুপ্ত হয়ে যাবে।  

Ø  মাথার করোটির হাড় আরও সুদৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক হবে।

Ø  ছেদক দাঁতের কার্যকারিতা কমতে কমতে ধীরে ধীরে এটি বিলুপ্তির পথে চলে যাবে।

Ø  মেরুদন্ডের কশেরুকাগুলি আরও শক্ত হবে এবং এগুলি একে অন্যের সাথে খুব দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকবে।

Ø  উরুর পশ্চাৎভাগে, পিঠে এবং মাথার পেছন দিকে মাংস বৃদ্ধি পাবে।


৩.৪.২. বাহ্যিক অবকাঠামো :


ভবিষ্যতের মানব মূলত নিম্নলিখিত সাধারণ বৈশিষ্ট্য ধারণ করবে :

Ø  হাতের অস্থি সরু না হয়ে বরং দৈর্ঘ্যে ছোট হবে।

Ø  সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে হাতের আঙ্গুলে। বৃদ্ধা ও তর্জনীর মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়বে। বুড়া আঙ্গুলের নমনীয়তা আরও বাড়বে। এমনকি আঙ্গুল থেকে শাখা-প্রশাখা গজানোর দৃঢ় সম্ভাবনা রয়েছে।

Ø  হাত, পা ও বুকের লোম খুবই দ্রুত হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মুখে দাঁড়ির সংখ্যা ধীরে ধীরে কমবে।

Ø  ভবিষ্যতে মানুষ হতে সৃষ্ট একদম সকল প্রজাতির মাথাতেই চুল থাকবে না। যেসব প্রজাতি অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী হবে তাদের মাথায় চুল থাকবে।

Ø  নাকের নিচ থেকে চিবুক পর্যন্ত অংশের উচুভাব কেটে গিয়ে কিছুটা চ্যাপ্টা হয়ে যাবে, অর্থাৎ, পিছন দিকে সরে আসবে।

Ø  পায়ের পেশী ও অস্থি খুব শক্তিশালী হবে। পা দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পাবে।

Ø  পেটের পেশীর পুরুত্ব বাড়বে।

Ø  ভবিষ্যৎ মানবদের দেহের সামগ্রিক গড় ভর হ্রাস পাবে।

উপরের বৈশিষ্ট্যগুলি মিলিয়ে নিয়ে যে প্রাণীর কথা কল্পনা করা যায় তাই হয়তো হবে ভবিষ্যৎ মানুষের চেহারা।


৩.৪.৩. মস্তিষ্কের অবকাঠামো :


সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যে মস্তিষ্কে হবে তা খুব সহজে অনুমান করা যায়। এখানেও সেরকম কিছু আনুমানিক কথা লেখা হল :

Ø  স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্ক আয়তনে বৃদ্ধি পাবে।

Ø  স্নায়ুকোষের অ্যাক্সনের প্রস্থ অনেক কমবে।

Ø  প্রচুর পরিমাণে নিউরন বা স্নায়ুকোষ সৃষ্টি হবে। সমগ্র দেহেই এর বিস্তার বাড়বে। তাই মানুষের সংবেদনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।

Ø  স্নায়ুকোষগুলিতে জটিল রাসায়নিক পরিবর্তন হবে। তাই বুদ্ধি-বিবেচনাতে দেখা দেবে আমূল পরিবর্তন।

Ø  গ্রেম্যাটার ও হোয়াইট ম্যাটারের ঘনত্ব খুবই বৃদ্ধি পাবে। মস্তিষ্কে আরও পৃথক সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

Ø  ভবিষ্যতে একসময় মস্তিষ্কে প্রবাহিত হবে শতভাগ বিশুদ্ধ রক্ত।


মস্তিষ্কের এসব পরিবর্তনের ফলেই হয়তো ভবিষ্যতের মানুষ হয়ে উঠবে অনন্য।


৪. উত্তরকথন :

                ভবিষ্যতে যে মানুষ থেকেই বিবর্তন ঘটবে একথা জোর দিয়ে বলা যায় না। হাতি, ঘোড়া, উট, বানর এমনকি মাছ বা তেলাপোকা থেকেও বিবর্তন হতে পারে। তবে পারস্পরিক প্রতিযোগিতার এ যুগে এসব প্রাণী যে খুব একটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না একথা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

                উচ্চবিত্ত সমাজের চেয়ে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সমাজে বিবর্তনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ উচ্চবিত্ত সমাজের মানুষদের বাঁচার জন্য খুব বেশি চিন্তা-ভাবনা বা কষ্ট করতে হয় না। নিজের ও সমাজের উন্নতি নিয়ে খুব একটা না ভাবলেও চলে। যদিও সেই উন্নয়নের ফল তারাই ভোগ করেন। এজন্য তাদের পরিবর্তনের আগ্রহ কম ও স্থিতিশীলতা বেশি। ভবিষ্যতে তারাই হয়তো মানব জাতির প্রতিনিধিত্ব করবেন। তবে তারা প্রতিযোগিতা করে আদৌ টিকে থাকতে পারবেন কিনা সেটা লাখ টাকা প্রশ্ন!


ভবিষ্যতে মানব বিবর্তনের পথে কিছু বাধা অবশ্য মানুষ নিজেরাই করে রেখেছে। যেমন :

ক. জনসংখ্যা বিস্ফোরণ : বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে মানুষের জন্মহার বৃদ্ধি পেয়েছে ও মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে বিশ্বে অতি দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ছে। এই সমস্যার সমাধান না করলেই পরবর্তীতে পৃথিবীতে বাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।

খ. জনসংখ্যা বিলুপ্তি : বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগেই আছে। দু’টি বিশ্বযুদ্ধে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর পরও মানুষ এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। যার ফলে যে কোন সময় মানব জাতির ধ্বংস আসন্ন।

গ. দূষণ : সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদকে উপর্যুপরি ব্যবহার করছে। এর ফলে একদিকে খনিজ তেল, গ্যাস, কয়লা হ্রাস পাচ্ছে, অন্য দিকে বায়ু, পানি সহ সমগ্র পরিবেশই রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাবে দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের ফলে মানব জাতির ভবিষ্যৎ ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন।

তবে, আমাদের পরম সৌভাগ্যের বিষয় এই যে, মানুষ এখন হতেই এসব বিষয়ে সচেতন হয়েছে।


৫. উপসংহার :

উপরের সমগ্র আলোচনায় যেসব সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলির সবই যে বাস্তবে ঘটবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, সর্বোপরি প্রকৃতি বহু কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। তাই বেগতিক অবস্থায় প্রকৃতি প্রাণীকূলের উপর প্রতিশোধ নিতে পারে। তবে, শেষ পর্যন্ত মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়বে- এই আশাতেই বুক বাঁধা শ্রেয় নয় কি !



৬. তথ্যসূত্র :

1.        The Origin of Species ……………………… Charles Darwin

2.        The Descent of Man ……………………… Charles Darwin

3.        Cell Biology, Genetics, Evolution and Ecology ……………………… P. S. Verma & V. K. Agarwal

4.        জীবের ক্রমবিকাশ ……………………… মৃত্যুঞ্জয় প্রসাদ গুহ

5.        প্রাণীর ক্রমবিকাশ ও অভিযোজন ……………………… ড. সুমন্ত মুখোপাধ্যায় ও রমেন মুখোপাধ্যায়

6.        সাধারণ প্রাণীবিদ্যা ……………………… সৈয়দ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর