লেখক:


দেবানিক দত্ত 

নবম শ্রেণী 

খুলনা জিলা স্কুল, খুলনা  



মানুষের বেঁচে থাকার জন্যে নিজের জ্ঞান বা জানার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। জানার পরিধি বাড়ানোর জন্যে প্রয়োজন তথ্য। যে কোন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে বাধ্য থাকে। তবে তথ্য সরবরাহে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গোপনীয়তা তার মধ্যে অন্যতম। কিছু তথ্য জনসাধারণের জন্যে নয়। এইসব তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আর তথ্য গোপনীয়তার জন্যে যে বিজ্ঞান তাকে ক্রিপ্টোলজি বলা হয়।আর এর ব্যাবহারিক     শাখা  হল ক্রিপ্তগ্রাফি।                                                                                            প্রথমে কিছু বিষয় আলোচনা করা দরকার। ক্রিপ্টওগ্রাফি শব্দের ক্রিপ্টো শব্দের অর্থ গুপ্ত বা লুকানো কোন কিছু। ক্রিপ্টোগ্রাফির  জন্য অর্থাৎ তথ্য গোপন করার নানা পদ্ধতি রয়েছে। এগুলি প্রায় সবই গণিত নির্ভর। তবে সব পদ্ধতির জন্য একটি জিনিষ অপরিহার্য। সেটি হলোঃ

১) K (Key) K হলো যে সংখ্যাটির বা বাক্যের দ্বারা কোন ক্রিপ্টোগ্রাফির সাইফারের (sipher) সমাধান করা যায় এটি কোন পদ্ধতিতে একটি প্যারা হয়েছে তার উপর নির্ভরশীল

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্যাটার্ণ এটি অনুসরণ করেই কোন কোডের সমাধান করা যায় সঠিক প্যাটার্ণ তৈরী করতে পারলে একটি তিন লাইনের সিজার শিফট (Cizer Shift) সাইফার সমাধান করতে ৫ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় নেয়। ক্রিপ্টোগ্রাফি ক্রিপ্টোলজির দুইভাগের একভাগ ছকের সাহায্যে ক্রিপ্তলগির শ্রেণিবিভাগ দেখানো হলোঃ





ছক ০১ঃ ক্রিপ্টোলজির বিভিন্ন শাখা

 

অনেক সময় কোড (Code) ও সাইফার (Ciper) –এর কথা শোনা যায় দুটি বিষয় এক নয় কোড হলো একটি বর্ণ বা শব্দের ক্রিপ্টোগ্রাফির মাধ্যমে পরিবর্তিত রূপ আর একাধিক কোড নিয়ে গঠিত বাক্য বা প্যারা যার মধ্যে মূল বাক্য লুকানো থাকে এবং সেই কোডের ধরণকে সাইফার বলে।অক্ষরের ক্রম সংখ্যা ক্রিপ্তগ্রাফিতে ভুমিকা রাখে।

ক্রিপ্টোগ্রাফির সূচনা হয়েছে সেই আদি যুগ থেকে লেখার আবিষ্কার, তথ্য আদান-প্রদান এর মাধ্যম আবিষ্কৃত হওয়ার পর প্রশ্ন আসে তথ্য নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা রক্ষা প্রসঙ্গে এছাড়া কোন গোপন জ্ঞান নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য বিশেষ সাংকেতিক ভাষার প্রয়োজনীয়তা মানুষ অনুভব করে শুরু হয় সংকেতের ব্যবহার মানব ইতিহাসের বিভিন্ন যুগের মত ক্রিপ্টোলজিরও বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে যথাঃ

) প্রাচীনকালে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোগ্রাফি (প্রাচীন যুগ)

) মধ্যযুগে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোগ্রাফি (মধ্য যুগ)

) আধুনিক কালে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোগ্রাফি (আধুনিক যুগ)

ক্রিপ্টোলজির শিকড় সন্ধানে আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রায় ৩০০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে, ব্যবিলনিও সভ্যতার যুগে তাঁরাই প্রথম সামরিক কাজে তথ্য আদান-প্রদান করার জন্যে ক্রিপ্টোলজির সূচনা করে তবে সেই সময় ক্রিপ্টোলজি ছিলো অনেকটা আজকের ধাঁধাঁর মত রূপকের ব্যবহার হত বেশি ঠিক সেই সময় মিশরীয়রাও ক্রিপ্টোলজির ব্যবহার শুরু করে যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো তাঁদের পিরামিডের উপর আঁকা ছবি বা সংক্ষেপে হায়ারোগ্রাফিকস হয়তো এদের অর্থ অনাবিষ্কৃত থাকতো যদিনা একটি পাথর(ROSETTA STONE) আবিষ্কৃত হতো সেখানে ছবিতে ব্যবহৃত প্রত্যেক বস্তুর মানে দেওয়া ছিলো সময় প্রবাহিত হতে থাকে হঠাৎ ইহুদি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন অ্যাটব্যাস সাইফার (Atbash Cipher) যাকে বর্তমানে অনেকে বলেন ট্রান্সপজিসন সাইফার (Transposition Cipher) এই পদ্ধতিতে প্রতি অক্ষরের বিপরীতে অন্য কোন অক্ষর ধরতে হবে যেমন A = S, B ইত্যাদি তবে পরিবর্তিত শব্দ থেকে মূল শব্দে আসা বেশ কঠিন (enscription to description)

তবে কয়েকটা বিষয় ইংরেজী শব্দের বেলায় বেশ কাজ দেয়ঃ

) e বর্ণটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়

) u বর্ণটি প্রায় সময়ই q-এর মত উচ্চারিত হয় এবং q-এর বিপরিতে ব্যবহার হয়

) any, are, the, and, is, if, it, in এই শব্দগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়

রোমানরাও এই ক্ষেত্রে কম ছিলো না সম্রাট সিজার নতুন পদ্ধতির ক্রিপ্টগ্রাফি আবিষ্কার ও প্রচলন করেন এটি সিজার শিফ্ট সাইফার নামে পরিচিত নাম শুনেই বুঝা যায় এক অক্ষর থেকে শিফ্ ট করে অন্য অক্ষরে যেতে হয়। যেমন ইংরেজী A-কে ৫ ঘর শিফ্ ট করলে হয় E তবে প্রশ্ন আসে Z এর বেলায় কী হবে? অতি সোজাযেহেতু ২৬ টি অক্ষর একটি বৃত্তের ভিতর স্থাপন করা হয় তবে Z-এর ৫ ঘর শিফ্ ট হবে E

 

রোমানদের ছেড়ে আমরা গ্রীকদের দিকে যাই গ্রীকরা যন্ত্রবিদ্যায় বেশ উন্নত ছিলো তারাও একটি সাইফার আবিষ্কার করে এর নাম ছিলো Skytale Cipher পদ্ধতি বেশ সোজা আর এটা ছিলো এ-রকমএকটি নির্দিষ্ট ব্যাসের বেলনে একটি কাপড় জড়ানো থাকবে  বিভিন্ন অক্ষর ত্থাকবে কাপড়ে কিন্তু মূল শব্দটি থাকবে এক সমান্তরালে আর সেই শব্দকে তখনই উদ্ধার করা যাবে যখন কাপড়কে নির্দিষ্ট ব্যাসের অন্য বেলনে জড়ানো হবে

এইতো গেলো প্রাচীন যুগের কথা মধ্যযুগে তথ্য গোপন করার জন্যে বিভিন্ন উপায় বা সাইফার ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠে তবে তিনটি সাইফার সেসময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠে সেগুলি হলোঃ

) স্কটল্যান্ডের মেরি কুইন সাইফার

) Vegenère সাইফার

) Usugi-এর সাইফার

মেরি কুইনের কথায় আসা যাক মধ্যযুগে অক্ষর এলোমেলো করে তৈরী করা কথায় কিছু সমস্যা দেখা দেয় প্রয়োজন পড়ে নতুন কিছু করার মেরি কুইন একটি যুগান্তকারী পরির্বতন আনেন তিনি এবং তার সহোচররা বিশেষ ধরনের সাইফার ব্যাবহার শুরু করেন একে Nomeclature Cipher বলা হয় তাঁরা বিভিন্ন ধরনের শব্দের পরিবর্তে কিছু Phrase ব্যবহার শুরু করেন -গুলি কোডবুকে লেখা থাকতো

 

খুব সহজে তথ্য আদান প্রদান করা যেত। শুধু বিষয়টি দুই বা ততধিক নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো। তবে এটি খুব কমই ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ দূর্ঘটনাবশতঃ একটি কোডবুক ফাঁস হয়ে যায় এবং এই পদ্ধতির আবিষ্কারক-কে নির্বাসন দেয়া হয়।

ভারনিয়ার সাইফার ফ্রান্সে আবিষ্কৃত হয়। আবিষ্কারকের নাম অনুসারে Leon Bttista Alberti নাম অনুসারে এর নামকরণ হয়েছে। কোন সন্দেহ নেই এটিই মধ্যযুগে আবিস্কৃত কোড গঠনের অন্যতম সেরা পদ্ধতি।

Nomeclature Cipher-এর অসুবিধা ছিলো – আর সেটি হলো কোন Key ছিলো না। কোডবুক থেকে Phrase এর অর্থ উদ্ধার করতে বেশ সময় লাগত। জানামতে তিনিই প্রথম ক্রিপ্টোগ্রাফিক ডায়াগ্রাম-এর ব্যবহার শুরু করেন। একে বলা হয় ভারনিয়ার ডায়াগ্রাম। কি এর ব্যাবহার তিনি শুরু করেন। তবে সেখানে একটি কি ব্যাবহার করে একটি শব্দ তৈরি করা যেতো। পরবর্তীতে এর আর অনেক উন্নতি করা হয়।

সবশেষে উল্লেখ করতে হয় uesugi cipher এর । vernier cipher এর মত এর ডায়াগ্রাম ছিল।৪৮ টি জাপানি শব্দ ৭ টি সারি এবং কলামে সাজানো থাক্ত।তবে সারি ও কলামে অক্ষর এর পরিবর্তে সংখ্যা থাকত।

এইত হল অতীত থেকে মধ্যযুগের ক্রিপ্টোগ্রাফির ইতিহাস।তবে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না প্রতি নিয়ত নানা ক্রিপ্টোগ্রাফির পদ্ধতির  আবিস্কার হচ্ছে।আমারা হয়ত শব্দ নিএ খেলতে গিয়ে এমন পদ্ধতির আবিস্কার করব জা আমাদের ভবিষ্যৎ পালতে দেবে।