লেখক:

মীর তাফহীম মাহমুদ 

অষ্টম শ্রেণী 

লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় 

 

 

আমরা প্রায় সবাই ব্লাক হোল-এর নাম জানি বা কোথাও শুনেছি। কিন্তু এটি নিয়ে আমরা খুব একটা বেশি খবর রাখি না। তাই আজ আমি ব্লাকহোল নিয়ে লিখেছি।

 

ব্লাক হোল কী?

 

ব্লাক হোল (কৃষ্ণ বিবর) এমন একটি বস্তু যার ভর ও ঘনত্ব হলো অনেক বেশি কিন্তু আয়তন বেশি নয়। মূলত সূর্যের থেকে ৩-৪ গুণ ভর বিশিষ্ট কোনো নক্ষত্র যখন তার জীবনের শেষ পর্যায়ে চলে আসে তথা নক্ষত্র যখন শক্তি উৎপন্ন বন্ধ করে দেয় তখন তার অবশিষ্ট অংশ মিলে অসীম ঘনত্ব ও ভরের এমন এক বস্তুর জন্ম নেয় যার থেকে কোনো বস্তু বের হতে পারেনা। এমনকি আলোও এর থেকে মুক্তি পায়না।

জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি অনুসারে, কৃষ্ণ বিবর মহাকাশের এমন একটি বিশেষ স্থান যেখান থেকে কোন কিছু, এমনকি আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে নাএটা তৈরি হয় খুবই বেশি পরিমাণ ঘনত্ব বিশিষ্ট ভর থেকেকোন অল্প স্থানে খুব বেশি পরিমাণ ভর একত্র হলে সেটা আর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে পারে না। আমরা মহাবিশ্বকে একটি সমতল পৃষ্ঠে কল্পনা করিমহাবিশ্বকে চিন্তা করুন একটি বিশাল কাপড়ের টুকরো হিসেবে এবং তারপর যদি আপনি কাপড়ের উপর কোন কোন স্থানে কিছু ভারী বস্তু রাখেন তাহলে কি দেখবেন? যেইসব স্থানে ভারি বস্তু রয়েছে সেইসব স্থানের কাপড় একটু নিচু হয়ে গিয়েছেএই একই বাপারটি ঘটে মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেযেসব স্থানে ভর অচিন্তনীয় পরিমাণ বেশি সেইসব স্থানে গর্ত হয়ে আছেএই অসামাণ্য ভর এক স্থানে কুন্ডলিত হয়ে স্থান-কাল বক্রতার সৃষ্টি করেপ্রতিটি গালাক্সির স্থানে স্থানে কম-বেশি কৃষ্ণ বিবরের অস্তিতের কথা জানা যায়সাধারণত বেশীরভাগ গ্যালাক্সিই তার মধ্যস্থ কৃষ্ণ বিবরকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনয়মান

 

ব্লাক হোলের সমাপ্তিঃ

 

ব্লাক হোল একটি বিরাট আকারের নক্ষত্র থেকে সৃষ্টি হয় সেটা আমরা জানি। কিন্তু ব্লাকহোল কীভাবে ধ্বংস হয় সেটা সম্পর্কে এতদিন কোনো ধারণা ছিলনা। কিন্তু কিছুদিন আগে পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন ব্লাকহোল ও ধ্বংস হতে পারে। ব্লাক হোল ধ্বংস হওয়ার পেছনে দায়ী হলো এক ধরনের বিকিরণ। স্টিফেন হকিং এই তত্ত্ব নিজে আবিষ্কার করেছেন বলে এর নাম দিয়েছেন হকিং বিকিরণ।

 

হকিং বিকিরণঃ

 

হকিং বিকিরণের ধারণা দিতে গিয়ে স্টিফেন হকিং বলেন-

আমরা জানি এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই শূন্য নয়। আমরা যাকে শূন্য বলি তা কিন্তু মোটেও শূন্য নয়। আমরা যে জায়গাকে শূন্য বলি সে জায়গায় ভার্চুয়াল কণা নামক কণিকার জন্ম হয়। ভার্চুয়াল কণা প্রতি নিয়তই জন্ম হচ্ছে। ভার্চুয়াল কণার মধ্যে একটি থাকে প্রকৃত কণা এবং অপরটি হলো প্রতিকণা। এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে এই কণার জন্ম হয় আবার সাথে সাথে তা নিজেদের সাথে সংঘর্ষিত হয়ে মিলিয়ে যায় বা শক্তি উৎপন্ন করে। যে পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয় তা আইন্সটাইনের সূত্রের সমান অর্থাৎ (E=mc²) .  কিন্তু এই ভার্চুয়াল কণা যদি ব্লাকহোলের ঘটনা দিগন্তে (ব্লাক হোলের শেষ সীমানা) উৎপন্ন হয় তবে প্রকৃত কণা এবং প্রতিকণা এক সাথে সংঘর্ষিত হয়না, বরং ব্লাক হোল একটি কণা নিজের কাছে টেনে নেয় এবং অপরটি তার থেকে দূরে ঠেলে দেয়। একটি কণা দূরে ঠেলে দিতে ব্লাকহোল নিজের শক্তি প্রয়োগ করে। অর্থাৎ কণাটি যে শক্তি প্রয়োগ করে তা আইন্সটাইনের ভর-শক্তির সূত্র (E=mc²) এর সাহায্যে উৎপন্ন করে। অর্থাৎ ব্লাকহোল এই কণাটিকে দূরে ঠেলে দিতে নিজের ভর থেকে শক্তি উৎপন্ন করে। আর শক্তি উৎপন্ন করতে করতে ব্লাক হোল অনেক ভর হারিয়ে ফেলে। আর ভর হারালে ব্লাক হোল আর নিজের জায়গায় থাকেনা। এভাবেই ব্লাকহোল ধ্বংস হয়ে যায়।

কিন্তু হকিং বিকিরণের উপর ভিত্তি করে স্টিফেন হকিং বলেছেন ব্লাক হোল নয় বরং গ্রে হোল থাকতে পারে। এই ব্লাক হোল প্রথমে শক্তি শোষণ করে এবং ভর হারাতে হারাতে তা বিকিরণ করে যার ফলে একে ধূসর দেখায়। ফলে একে ধূসর হোল বলে।

কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার এক অধ্যাপিকা (লরা মারসিনি হাউটন) বলেন ব্লাকহোল তৈরীই হতে পারেনা। কারণ হকিং বিকিরণের ফলে এত ভর হারায় ফলে ব্লাক হোল গঠন অসম্ভব।

 

আসলে কোনটি সত্য?

 

ব্লাক হোল আর গ্রে হোল বা এসব কিছুই না এই সম্পর্কে কিছু আলোড়ন বিশ্বে তৈরী হয়েছে। কিন্তু সবার যুক্তিই কিন্তু গ্রহণযোগ্য। কিন্তু একসাথে ব্লাক হোল, গ্রে হোল বা এসব কিছুই না এত কিছুতো হতে পারেনা! তাই এর মধ্য থেকে একটাই থাকা আবশ্যক। হয় ব্লাক হোল নয় গ্রে হোল অথবা কিছুই না।

 

আমি মনে করিঃ

 

আমি মনে করি ব্লাক হোল থাকার সম্ভাবনা আছে। এর কারণ আমি মনে করি হকিং বিকিরণে ব্লাক হোল কোনো ভর হারায় না বা কোনো ভর সৃষ্টিও করেনা।

কারণঃ

হকিং বিকিরণ অনুযায়ী ভার্চুয়াল কণার দুটি কণার মধ্যে একটি কণা ঠেলে দেয় আরেকটি গ্রহণ করে। আর যেটি ঠেলে দেয় সেটির জন্য ব্লাকহোল নিজেইশক্তি প্রয়োগ করে। যার ফলে এটি অনেক ভর হারায়।

কিন্তু ভর হারায় না। কারণ যে কণাটি ব্লাক হোল নিজের কাছে টেনে নেয় সেটি তো আর শক্তি না। সেটাও ভর। আর এটি ব্লাকহোলের কাছে গিয়ে নিজেও ব্লাকহোলের সাথে যোগ হয়ে ব্লাক হোলের ভর বাড়ায়।

এ দিক চিন্তা করলে আমরা বলতে পারি সাধারণ ব্লাক হোল-ও সুপার ম্যাসিভ ব্লাকহোলে (সাধারণ ব্লাক হোল থেকে হাজার বা কোটি বা বিলিয়ন গুণ বড়ো হতে পারে) পরিণত হতে পারে।

কিন্তু তা হয় না কারণ ঐ যে কণাটা ব্লাক হোল নিজের ঘটনা দিগন্ত থেকে দূরে ঠেলে দেয় সে কণাটা দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য যে শক্তি প্রয়োজন তা সেই কণাটি থেকে পাওয়া সম্ভব যেটি ব্লাকহোল সংগ্রহ করে।

উদাহরণঃ কোনো ব্লাকহোল একটি ভার্চুয়াল কণার কোনো একটি কণা নিজে নিল এবং অপরটি ঠেলে দিল। যে কণা ঠেলে দিল সে কণাকে ব্লাক হোল তার ঘটনা দিগন্ত অতিক্রম করাতে যতটুকু শক্তি উৎপন্ন করবে তার পুরোটাই পাওয়া যাবে ঐ কণিকা থেকে যেটি ব্লাক হোল গ্রহণ করেছে